সাম্প্রতিক

6/recent/ticker-posts

মাশরুম চাষ, ফলন বাড়ানোর কৌশল

মাশরুম চাষ, কম খরচে বেশি লাভ

মাশরুম চাষে লাভ বেশি চাইলে এর গুণগত মান বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীলতাও বাড়াতে হবে। বাড়িতে মাশরুম চাষ কিন্তু একটি শৌখিন ব্যাপার। সেই সঙ্গে বেশ লাভজনকও। ভালো জাতের মাশরুম চাষ এবং ফলন বাড়ানো কিন্তু খুব কঠিন কাজ নয়। এর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়া এবং সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ কোনো আহামরি ব্যাপার নয়। আসুন জেনে নিই মাশরুমের ফলন বাড়ানোর উপায়গুলো কী কী:

ধাপ ১. মাশরুমের ফলন প্রভাবিত করে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জানা
কোনো বিষয় মাশরুম চাষ এবং ফলনে প্রভাব ফেলে এ বিষয়গুলো আগে জানতে হবে। এটি আসলে একটি সহজ ফসল। কম বিনিয়োগে বেশি লাভ করা যায় সম্ভবত একমাত্র এই ফসলেই।

মাশরুম চাষে লাভ নির্ভর করে মাশরুমের জাতের ওপর। সেই সঙ্গে দক্ষতা তো রয়েছেই। যদি আপনি দক্ষ হোন তাহলে মাশরুম চাষই একমাত্র পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারেন। মনে রাখতে হবে, এখানে অনেকগুলো কারণ ফলন ও লাভে প্রভাব ফেলতে পারে- খামারের আকার এবং অবস্থান, জাত, রোগ, খামার ব্যবস্থাপনা, ব্যবসার বিজ্ঞাপন বা প্রচার, বিপণন এবং মৌসুম। একটি ছোট আকারের খামারের জন্য অনেক ক্ষেত্রে মাত্র ২০০-৫০০ টাকা খরচ হয়!

আপনার বাড়িতে যদি একটি ছোট্ট অন্ধকার ঘর বা ছায়াযুক্ত একটি উঠান থাকে তাহলেই কিন্তু মাশরুম চাষের একটা উদ্যোগ নিয়ে দেখতে পারেন।  সফল হলে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ বাড়ান। ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন। মনে রাখতে হবে- আপনার ব্যবসার লাভ-লোকসান নির্ভর করবে কীটপতঙ্গ ও রোগবালাইয়ের প্রকোট, স্পনের বিশুদ্ধতা এবং গুণমান।

ধাপ ২. মাশরুমের ফলন সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে
সহজ কথায় মাশরুমের ফলন বলতে টাটকা/কাঁচা মাশরুমের পরিমাণ বোঝায়। অর্থাৎ আপনার খামারের আকার এবং অন্যান্য বিনিয়োগের তুলনায় কী পরিমাণ মাশরুম তুলতে পারলেন সেটি। ফলন যতো বেশি হবে আপনার সাশ্রয়ও কিন্তু ততো বাড়বে। এটিকে বলে মার্জিনাল ইল্ড। মাশরুমের উৎপাদন হিসাব করুন সম্পূর্ণ ফ্ল্যাশ থেকে প্রাপ্ত ফলনের ভিত্তিতে। কারণ প্রথম ফ্ল্যাশে সাধারণত বেশি ফলন হয়। এরপর কমে যেতে পারে।

ধাপ ৩. উৎপাদন বাড়াতে উচ্চ ফলনশীল জাত নির্বাচন
কোন স্ট্রেইনটি আপনি বাছাই করছেন সেটির ওপর ফলন অনেকখানি নির্ভর করে। মাশরুমের কালচার শুরু হয় মূলত দুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ স্পোরের হাইফি যখন মিলিত হয় এবং মাইসেলিয়াম হিসেবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এর মানে হলো মাশরুমের ডিম্বাণুগুলো বাড়তে শুরু করে তখন অসংখ্য স্ট্রেইনের বিন্যাস তৈরি হয়। এখানে সামান্য জেনেটিক পার্থক্যও কিন্তু ফলনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে বাংলাদেশ মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট বা কিছু এনজিও যারা মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ দেয় তারা ভালো ও বিশুদ্ধ জাতের মাশরুমের চারা সরবরাহ করে। ফলে এটি নিয়ে আপনার খুব একটা চিন্তা করার দরকার নেই। আপনি জেনে নিবেন আমাদের দেশের আবহাওয়ায় সবচেয়ে উচ্চ ফলনশীল ও সহিষ্ণু জাত কোনটি।

ধাপ ৪. উচ্চ ফলনশীল জাত নির্বাচন
বিভিন্ন জাতের মাশরুমের উৎপাদন খরচ কিন্তু বিভিন্ন। বাজেট অনুযায়ী আপনাকে জাত বাছাই করতে হবে। নিচে কিছু জাত নিয়ে আলোচনা করা হলো:
১. বুনো মাশরুম যেমন- Shiitake, Lions Mane এবং Oyester। এগুলো বেশ লাভজনক এবং সহজে চাষ করা হয়। এসব মাশরুমের ঔষধি গুণও আছে।
২. বাটন মাশরুম
৩. রাইস স্ট্র মাশরুম।

বিশ্বে আরো কিছু জাতের মাশরুম বিভিন্ন সুপারমার্কেটে বিক্রি হয়। এর মধ্যে পিঙ্ক অয়েস্টার মাশরুম সাধারণত বেশি দেখা যায়। কম পরিশ্রম ও বিনিয়োগের বেশি লাভ করতে চাইলে এমন লাভজনক জাতের মাশরুম নির্বাচন করুন। সবচেয়ে লাভজনক জাতের মধ্যে প্রচলিত দুটি হলো- অয়েস্টার এবং Shiitake মাশরুম।

ধাপ ৫. মাশরুম বৃদ্ধির জন্য সর্বোত্তম পরিবেশ নির্ধারণ
যেহেতু অয়েস্টার এবং খাপ (শিদ/Sheath) মাশরুম বাড়িতে অন্ধকার ঘরেই চাষ করা যায় তাই আপনাকে এগুলো জন্মানোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশের কথা ভাবতে হবে। মোটামুটি মানের শেড, গ্রিনহাউস, গ্যারেজ, বেসমেন্ট বা গুদাম ঘরেই এসব জাতের মাশরুম চাষ করা যেতে পারে।

আশার কথা হচ্ছে, ঘরের বাইরে পরিবেশ অর্থাৎ ঋতুর আবহাওয়ার প্রভাব এসব মাশরুমের ওপর খুব কমই পড়ে। সবাই জানেন, মাশরুম আর্দ্র পরিবেশে জন্মায়। অর্থাৎ পরিবেশ হতে হবে ভেজা, বাতাসে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকতে হবে। অয়েস্টার মাশরুম গরম ও ঠান্ডা দুই ঋতুতেই জন্মায়। পার্ল অয়েস্টার, ব্লু অয়েস্টার এবং কিং অয়েস্টার বন জঙ্গলে গাছের গুঁড়িতে জন্মায়। এরা সাধারণত ঠান্ডা আবহাওয়া পছন্দ করে। আর গোল্ডেন অয়েস্টার, ফিনিক্স অয়েস্টার এবং পিঙ্ক অয়েস্টার পছন্দ করে গরম আবহাওয়া।

Shiitake মাশরুম কিন্তু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উষ্ণ, আর্দ্র অঞ্চলের পর্ণমোচী (শীতে পাতা ঝরে এমন গাছ) সবচেয়ে ভালো জন্মায়। ফলে বাড়িতে মাশরুম চাষ করার সময় এসব বিষয় মাথায় রাখতে হবে। তবে ছায়াযুক্ত স্থানে প্রচুর আর্দ্রতা থাকলে যে কোনো জাতের মাশরুমের বৃদ্ধিতে তেমন সমস্যা হওয়ার কথা না।

ধাপ ৬. ভালো জাতের মাশরুম স্পন নির্বাচন
স্পন হলো মাশরুমের বীজ। মাশরুমের স্পন উৎপাদনের জন্য প্রযুক্তি দক্ষতা এবং বিনিযোগ প্রয়োজন। বড় কোম্পানিগুলো বেশিরভাগ মাশরুমের স্পন উৎপাদন করে। ভালো মানের মাশরুম স্পনের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

• কম্পোস্টে স্পন দ্রুত বৃদ্ধি হয়।

• কেসিংয়ের পরে প্রাথমিকভাবে কিছু অপ্রয়োজনীয় অংশ ঝরে যাবে।

• উচ্চ ফলন

•  মাশরুমের গুণগত মান বেশ ভালো।

ধাপ ৭: মাশরুম বৃদ্ধির জন্য নরম পরিবেশ প্রয়োজন

সবুজ কচি উদ্ভিদের মতো, মাশরুমও সূর্যের আলো ও তাপ সহ্য করতে পারে না। তাছাড়া এরা সূর্যের আলো আহরণ করে খাদ্যও উৎপাদন করতে পারে না। তাই এদের আলোর প্রয়োজন হয় না। অন্ধকারে মাশরুম বাড়ানোর সুবিধা হলো যে অন্ধকারে আর্দ্রতা রক্ষা করা সহজ। এমন পরিবেশেই মাশরুমের বীজগুলো অঙ্কুরদগম হয়। মাশরুমকে অবশ্যই সরাসরি সূর্যের আলো থেকে দূরে রাখতে হবে।

ধাপ ৮: মাশরুমের ফলন বাড়াতে অভিজ্ঞতা অর্জন করুন
মাশরুম চাষের জন্য পরিশ্রম এবং অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। মাশরুম চাষের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জানতে হবে। এর জন্য অনেক অনলাইন কোর্সও করা যায়। দেশে বেশ কয়েকটি এনজিও মাশরুম চাষ শেখায়। কৃষি বিভাগও মাশরুম চাষে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

ধাপ ৯: বাটন মাশরুমের উৎপাদন বাড়ান
প্রোটিন-সমৃদ্ধ সম্পূরক যেমন তুলাবীজ মিল, সয়াবিন মিল, আলফা-আলফা মিল, ফেদার মিল ইত্যাদি মাশরুমের উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করে। সম্পূরক পুষ্টি (স্পনিং এর সময় বা কেসিং এর আগে) স্পনিংয়ের পরে দেওয়া যেতে পারে। এটা বেশ উপকারী।

ধাপ ১০: মাশরুম চাষের জন্য বেডের আকার
মাশরুম জন্মানোর জন্য যদি বেড তৈরি করেন তাহলে বেডটি যে ভিত্তির উপর রাখবেন সেটি অবশ্যই বেডের আকারের চেয়ে বড় হতে হবে। মাশরুম যেতেহু উঁচু স্থানে জন্মাতে পছন্দ করে, তাই ইট এবং কাদামাটির ভিত্তি তৈরি করে সেখানে বেড স্থাপন করতে পারেন। অথবা বাঁশ বা লোহার তৈরি ফ্রেমের উপরও বেড রাখতে পারেন।

প্রথমে অন্তত ৪-৫ বেল ভিজানো খড় বা অন্য কোনো স্ট্র ফ্রেমে উপর রাখুন। এরপর বিপরীত পাশে আরও চার বেল রাখুন।

এরপর, এই আটটি বান্ডিল একসাথে বিছানার উপর সমানভাবে ছড়িয়ে প্রথম স্তর তৈরি করুন। প্রথম স্তরের পুরুত্ব হবে প্রায় ১১-১২ সেমি। এবার সমান দূরত্বে মাশরুমের বীজ ছড়িয়ে দিন। এবার শেষ স্তরটি সমানভাবে ছড়িয়ে দিন। এরপর একটি স্বচ্ছ প্লাস্টিকের শিট দিয়ে পুরো বেডটি ঢেকে দিন। তবে শিটটি যেন একেবারে বেডের সঙ্গে লেপ্টে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ধাপ ১১: মাশরুমের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার উপায়
মাশরুম চাষে অনেক দেশে উন্নত খামারে উচ্চ ভোল্টেজ বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র ব্যবহার করা হয়। এর ফলে মাশরুমের ফ্রুট বডির বৃদ্ধি দ্রুত হয়। মাশরুম চাষের বেডের সাথে বিশেষভাবে এই উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ ক্ষেত্র তৈরি করা হয়।

ধাপ ১২: বড়, স্বাস্থ্যকর মাশরুম উৎপাদনে সম্পূরক পুষ্টি
সাপ্লিমেন্টেশন হলো সম্ভাব্য ফলন বাড়াতে মাশরুমের সাবস্ট্রেটে (যে স্তরে মাশরুম থাকে) নাইট্রোজেন-সমৃদ্ধ পুষ্টি যোগ করার প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় মাশরুমের বেডের উপরের স্তরে পুষ্টি যোগ করা হয়। বিভিন্ন নাইট্রোজেন এবং কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ সম্পূরক মাশরুমের ফলন বৃদ্ধিতে বেশ কার্যকর। সাপ্লিমেন্টটি সাধারণত সাবস্ট্রেটে তুষ, গমের ভূমি বা ওট ব্রানের সঙ্গে যোগ করে দেওয়া হয়। বাজারে এভাবেই বিক্রি হয়। বাংলাদেশে এটি পাওয়া যায় কি না নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

তবে মনে রাখতে হবে, অত্যধিক সম্পূরক ক্ষতিকারক। এছাড়া দূষণের সম্ভাবনা বাড়ায়। সাবধানে পরিপূরক ব্যবহার করুন। অল্প অল্প করে দিয়ে শুরু করুন। ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ান।

ধাপ ১৩: যা কিছু মাশরুমের বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে
মাশরুমের উচ্চতা, ব্যাস এবং টুপির (ক্যাপ) আকার প্রস্তাবিত করে এমন প্রধান পরিবেশগত কারণগুলো হল: বায়ুর তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, তাজা বাতাস এবং কমপ্যান্ট উপাদান।

স্পনিং: বাটন মাশরুম উৎপাদনের প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হলো স্পনিং। এটি বেডে মাইসেলিয়াম বপনের প্রক্রিয়া। স্পন করার দুটি উপায় রয়েছে: প্রথমটি হলো ট্রের বেডে কম্পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়া এবং দ্বিতীয়টি হলো ট্রেতে ছড়িয়ে দেওয়ার আগে কম্পোস্টের সাথে মাইসেলিয়াম মিশ্রিত করা। ট্রেকে আর্দ্র রাখতে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে এবং স্পন (অঙ্কুরদগম) করার পরে খবরের কাগজ দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

কেসিং- এরপর গুঁড়ো মাটির একটি পুরু স্তর দিয়ে ট্রেটি ঢেকে দিতে হবে। বাগানের মাটি ও পচা গোবর মিশিয়ে এই মাটি তৈরি করতে পারেন। এই মাটি কেসিং সয়েল নামে পরিচিত। এই মাটির ভালো পানি ধারণ ক্ষমতা আছে।

ধাপ ১৪: মাশরুম বৃদ্ধির জন্য পুষ্টি
মাশরুম জৈব পদার্থ থেকে পুষ্টি সংশ্লেষিত করে। চিনি, স্টার্চ, লিগনিন, চর্বি, প্রোটিন এবং নাইট্রোজেন বৃদ্ধির জন্য তাদের বিশেষ পুষ্টির প্রয়োজন। গোবর এবং খড় থেকে তৈরি কম্পোস্টে বাটন মাশরুমের বৃদ্ধির জন্য আদর্শ পুষ্টি। shiitake মাশরুম গাছের গুঁড়ি বা কাঠের গুঁড়া থেকেই পুষ্টি আহরণ করতে পারে। আর কর্ন (দানাশস্য), পিট মস এবং বালির মিশ্রণ গোবর এবং খড়ের বিকল্প কম্পোস্টের কাজ করে।

ধাপ ১৫: মাশরুমের ফলন সর্বাধিক করার টিপস
মাশরুমের ফলন বৃদ্ধির জন্য কম্পোস্ট ব্যবহারের বিকল্প নেই। সয়া মিল, ফেদার খাবার বা প্রোটিন/কার্বোহাইড্রেট, চর্বি এবং প্রোটিন মিশ্রণ। ক্যালসিয়াম/অ্যামাইন লবণ, কার্বক্সিলিক অ্যাসিড। পুরো মিশ্রণটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে নিতে হবে।

মাশরুমের পাঁচটি বাণিজ্যিক জাত এই অঞ্চলে চাষ করা হয়। এগুলো হলো- বাটন মাশরুম, অয়েস্টার মাশরুম, স্ট্র মাশরুম, মিল্কি মাশরুম এবং shiitake মাশরুম।

ধাপ ১৬: মাশরুম চাষের সাফল্যের টিপস
একটি লাভজনক মাশরুম ব্যবসার জন্য এই টিপসগুলো মাথায় রাখুন। রোগ থেকে আপনার ফসল রক্ষা করুন, ভাইরাল, ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের সংক্রমণ মাশরুমের পুরো ফসল ধ্বংস করতে পারে। লাভের মার্জিন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে । একটি সুন্দর স্বাস্থ্যকর ব্যবস্থাপনা মাশরুমের চাষের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এক্ষেত্রে কর্মচারী রেখে চাষ করতে চাইলে তাকে অবশ্যই দক্ষ হতে হবে।

আপনার খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখুন: মাশরুম স্পন কিনতে গিয়েই অনেক টাকা খরচ হয়ে যেতে পারে। বারবার এই খরচ বাঁচাতে নিজেই স্পন তৈরি শিখে ফেলুন। খামারের ভেতরের পরিবেশের ওপর আপনার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখার চেষ্টা করুন। গ্রিনহাউস এর জন্য সবচেয়ে ভালো।

আপনার ফসলের তথ্য সংগ্রহ করুন: ডেটা সংগ্রহ করাটা জরুরি। একজন ভালো ব্যবসায়ী তাঁর প্রতিদিনের হিসাব গুছিয়ে রাখেন। ফলন বাড়াতে চাইলে আপনার দৈনন্দিন কার্যক্রমের হিসাব রাখুন। আপনার কোন কাজ মাশরুমের ফলনে কীভাবে প্রভাব ফেলছে হিসাব রাখলে সেটি বুঝতে পারবেন। এর মাধ্যমে আপনি সবচেয়ে ভালো স্বাদযুক্ত মাশরুমের জন্য ইনকিউবেশন পিরিয়ড, আদর্শ সাবস্ট্রেট এবং ফসল সংগ্রহের উপায় খুঁজে বের করতে পারবেন।

মাশরুমের ফলন
জাতের ভেদে এক বছরের মধ্যে বাটন মাশরুম ৩-৪ থেকে চারবার সংগ্রহ করা যায়। সব ঠিকঠাক থাকলে প্রতিটি মাশরুমের ওজন প্রায় ৪০০ গ্রাম হওয়ার কথা। সে হিসাবে প্রতি হেক্টরে ফলন হতে পারে ১৭০ থেকে ৪৫০ কেজি। অবশ্য আপনার খামারে মাশরুমের ঘনত্বের ওপরও এই ফলন নির্ভর করবে।

Post a Comment

0 Comments