সাম্প্রতিক

6/recent/ticker-posts

কীটনাশক ও সব বালাইনাশক খুঁজে নিন এক ক্লিকে

pesticide herbicide manual in Bangladesh

দিনাজপুর জেলায় লিচু খেয়ে ১৪ শিশু মারা যায়। পরে চিকিৎসকেরা বলেন, তারা কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় মারা গেছে।

২০১২ সালের জুনে এ নিয়ে বিবিসি বাংলায় খবর প্রকাশ করা হয়। শিশুগুলোর বয়স ২ থেকে ১০ বছরের মধ্যে।

এর আগে ২০০৮ সালে নওগাঁয়, এর পরের বছর ধামরাইতে একই ভাবে কীটনাশক মেশানো সবজি খেয়ে কয়েকজন মারা যান। এ নিয়ে তখন আলোচনা হলে, কীটনাশকের অতিরিক্তি ব্যবহার কিছুটা কমে আসে।

কৃষকেরা হয়তো বাধ্য হয়েই কীটনাশক ব্যবহার করেন। বিশেষ করে এখন সব ফসলই বাণিজ্যিক ভাবে চাষাবাদ করা হয়। ফলে বেশি ফলন ও লাভের আশায় কৃষকেরা প্রচুর কীটনাশক প্রয়োগ করেন।

আমাদের দেশের বেশির ভাগ কৃষক এখনো অশিক্ষিত অথবা অসচেতন হওয়ার কারণে কীটনাশক ব্যবহারের বিধি জানেন না। তারা কীটনাশক কোম্পানি বা ব্যবসায়ীর পরামর্শে জমিতে বুঝে না বুঝে কীটনাশক ব্যবহার করে।

এভাবে অপরিমিত কীটনাশক ব্যবহারের কারণেই ফল বা সবজি বিষাক্ত হয়ে যায়। এগুলো যদি কৃষি দপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী, যথাযথ নিয়ম মেনে ছিটানো হয়, তাহলে সেটি আর ফলে বা ফসলে মেশে না। 

এ কারণে ভোক্তাদেরও উচিত ফল বা সবজি খাবার আগে ভালো করে সেটি ধুয়ে নেয়া। তাহলেও এসব বিষ এড়ানো যায়।

তার মানে এটি পরিষ্কার যে, কীটনাশক যদি ব্যবহার করতেই হয় তাহলে অবশ্যই জেনে বুঝে রোগ চিহ্নিত করার পর নির্দিষ্ট পরিমাণেই প্রয়োগ করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে সাধারণ একটি নিয়ম হলো: ফল বা ফসলে কীটনাশক প্রয়োগের সাত দিন পর ফসল সংগ্রহ করতে হবে। তা না হলে বিষক্রিয়া থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

আর কীটনাশক প্রয়োগের সময় অবশ্যই হাতে গ্লাভস, মুখে মাস্কসহ অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে। 

এখানে উল্লেখ করা দরকার, সম্প্রতি দেশের সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষ এখন বেশি ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে। এর মধ্যে আবার ব্রেইন ক্যানসারের রোগীই বেশি। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ফসলে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করার কারণেই এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার, ফসলের উৎপাদনের বাড়াতে কীটনাশক ব্যবহার করে হয়তো কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। কিন্তু পরোক্ষ ভাবে এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। কীটনাশক পানির সাথে মিশে উন্মুক্ত জলাশয়ের পরিবেশ নষ্ট করছে। এতে ক্ষতি হচ্ছে পানির বাস্তুসংস্থানের। অনেক উপকারী পোকা-মাকড় ও মাছ বিলুপ্ত হওয়ার পেছনে কিন্তু এই কীটনাশক ও আগাছনাশক অনেকাংশে দায়ী।

সুতরাং কীটনাশক ব্যবহারে সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই। কৃষকদের সুবিধার জন্য সরকার এ সংক্রান্ত একটি ওয়েবসাইট করেছে। এখানে অনুমোদিত কোম্পানি এবং কীটনাশকের তালিকা দেওয়া আছে। সেই সঙ্গে ওয়েবসাইটেই কিছু তথ্য দিয়ে পরামর্শ চাওয়া যেতে পারে। কৃষক মোবাইল ফোন থেকেই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারবেন এবং পরামর্শ চাইতে পারবেন।
pesticide prescription
লোগোর ওপর ক্লিক করুন।


Post a Comment

1 Comments

  1. ভাই ফাউমি মুরগী সম্পর্কে জানতে চাই

    ReplyDelete