সাম্প্রতিক

6/recent/ticker-posts

প্রাণী অধিকার নিয়ে ভাবুন

স্পেনের ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের লড়াই      ছবি : সংগৃহিত
নিজের অধিকার নিয়ে মানুষ এত গলা ফাটায়। পশু-পাখি কি শুধু মানুষের ভোগের জন্য? তাদের অধিকার বলে কোনো ধারণার অস্তিত্ব নেই? ২০১৫ সালের মে মাসের ৬ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত আমেরিকায় মোট এক হাজার মানুষের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল- পশুদের কি অধিকার থাকতে পারে? পশুদের রক্ষার জন্য কিছু করা উচিত কি-না এবং মানুষের চিকিৎসা সুবিধা বাড়াতে পশুদের ব্যবহারের ভাল-মন্দ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।

আমেরিকার সব মানুষের তিন ভাগের এক ভাগ সোজা বলে দিয়েছেন, মানুষের মতো সমান অধিকার থাকা উচিত পশুদেরও। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই মতের অধিকারীদের বেশিরভাগই হচ্ছেন নারী। শতকরা বিয়াল্লিশ ভাগ নারী পশুদের সমান অধিকার নিয়ে সোচ্চার, যেখানে পুরুষদের মাত্র বাইশ ভাগ। যাদের ওপর জরিপ করা হয়েছে তাদের এক শ’ জনের মধ্যে বত্রিশ জনই মনে করেন পশু আর মানুষের অধিকার সমান সমান হওয়া উচিত। ২০০৮ সালেও একই রকম জরিপ করা হয়েছিল। তখন এক শ’ জনের মধ্যে আটাশজন বলেছিলেন, মানুষ আর পশুর অধিকার সমান হওয়া উচিত। সাত বছরে এর সংখ্যা শতকরা চার ভাগ বেড়েছে। সমান অধিকারকে সমর্থন দেয়া নারীদের সংখ্যা ২০০৮ সালে ছিল পঁয়ত্রিশ ভাগ, ২০১৫ সালে এসে হয়েছে দাঁড়িয়েছে বিয়াল্লিশ। 

একই ভাবে ২০০৮ সালে শতকরা ১৪ ভাগ পুরুষ এ বিষয়ে সমর্থন জানালেও এখন বাইশ ভাগ পুরুষের সমর্থন মিলেছে। জরিপে আরও জানা গেছে, শতকরা ৬২ জন আমেরিকান মনে করেন, মানুষেরই উচিত পশুদের আহত হওয়া থেকে রক্ষা করা। বাকিরা এ রকম দায়িত্ব মানুষের ঘাড়ে দিতে রাজি নন। ‘কেবল পশু বলে’ মানুষ এদের আগলে রাখবে, এমন ভাবনার বিরোধিতা করেছেন এরা। লক্ষ্য করা গেছে, ডেমোক্র্যাট দলের সমর্থকরা পশুর সমানাধিকারের ব্যাপারে রিপাবলিকানদের চেয়ে সোচ্চার। যদিও পশুর সমান অধিকার দিতে দুই দলের সমর্থকদের সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। আরও লক্ষ্য করা গেছে, এ বিষয়ে তরুণ আমেরিকান আর বয়স্কদের চিন্তা-ভাবনার পার্থক্য খুব সামান্য। প্রশ্ন করা হয়েছিল মানুষের চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়াতে গবেষণাগারে পশুদের ব্যবহার নিয়ে। শতকরা তেত্রিশ ভাগ আমেরিকান নিজেদের ‘উদ্বিগ্ন’ বলেছেন। শতকরা ২১ ভাগ আমেরিকান চিড়িয়াখানায় বন্দী পশুদের নিয়ে তাদের উদ্বিগ্নতার কথা জানিয়েছেন। দুই-তৃতীয়াংশ আমেরিকান সার্কাসে প্রাণীর ব্যবহার নিয়ে ‘ভাবছেন’।

পশুদের অধিকার নিয়ে ভাবনা-চিন্তা যে সত্যিই বেড়েছে এর প্রমাণ দেখা গেল আমেরিকান আদালতে। পশু অধিকার সচেতন এক আইনজীবী শিম্পাঞ্জির ব্যক্তি-পরিচয়ের দাবিতে মামলা করেছেন। ন্যুয়র্কে খাঁচায় রাখা টমি নামের এক পোষা শিম্পাঞ্জিকে ছেড়ে দেয়ার জন্য নন-হিউম্যান অধিকার বিষয়ক আইনের আওতায় রিট মামলা দায়ের করেন তিনি। মানুষ ফার্মের হাঁস-মুরগি-গরু-ছাগলকে ক্ষতিকারক ওষুধ মেশানো খাবার খাওয়ানোর বিরুদ্ধেও প্রতিবাদী হয়ে উঠছে।

Post a Comment

0 Comments